ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্য এবং তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণে নারীর ভূমিকা


শেষ হলো ‘ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্য এবং তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণে নারীর ভূমিকা’ শীর্ষক তাবিনাজ সম্মেলন- ২০১৫

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘ দেশে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন থাকলেও এর বাস্তবায়ন নাই। তাই তামাত নিয়ন্ত্রণে এখন দরকার বিদ্যমান আইনের কঠোর বাস্তবায়ন এবং এর পাশাপাশি জনসচেতনতা সৃষ্টি’।

‘ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্য এবং তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণে নারীর ভূমিকা’ শীর্ষক তামাক বিরোধী নারী জোট (তাবিনাজ) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন।

জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ, প্রজ্ঞা এবং তাবিনাজের যৌথ আয়োজনে ২ ডিসেম্বর ২০১৫ আগারগাঁও এলজিইডি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘তাবিনাজ সম্মেলন, ২০১৫’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রোকসানা কাদের।

দিনব্যাপী এ সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে মুখ্য আলোচক ছিলেন ‘ক্যাম্পেইন ফর টোবাকো ফ্রি কিডস্’ এর দক্ষিণ এশিয়ার প্রোগ্রাম পরিচালক বন্দনা শাহ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন লিড কনসালটেন্ট বাংলাদেশের মো: শরিফুল আলম। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব) আব্দুল মালিক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন তাবিনাজের আহবায়ক ফরিদা আখতার।

উদ্বোধনী পর্বে আলোচক হিসাবে আরও উপস্থিত ছিলেন সোসাইটি ফর এ্যাসিসটেন্স টু হেয়ারিং ইম্পেয়ার্ড চিলড্রেন এর পরিচালক ডা. এম এ সামাদ, কুষ্টিয়া জেলার তাবিনাজ সদস্য সালমা সুলতানা, কুমিল্লা জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো: মজিবুর রহমান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এর অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম মাহবুবুর রহমান, জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল এর প্রোগ্রাম অফিসার ডা. শেখ মো: মাহবুবুস সোবহান এবং শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চেন্সেলর প্রফেসর ড. শহীদুর রশীদ ভুঁইয়া।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরে প্রথম অধিবেশনে আলোচ্য বিষয় ছিল ‘ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্যের উৎপাদন, বিক্রি এবং ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ’। এই অধিবেশনে বিশেষ অতিথি ছিলেন মাগুড়া জেলার সিভিল সার্জন ডা. এফ বি এম আব্দুল লতিফ। এবং সভাপ্রধান ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক ডা. শাহলা খাতুন, স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ এবং সদস্য, তামাক মুক্ত বাংলাদেশ মঞ্চ, ঢাকা।


তাবিনাজ সম্মেলন ২০১৫


দ্বিতীয় অধিবেশনে ‘তামাক চাষে স্বাস্থ্যের ক্ষতি ও তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাশ। টাংগাইল জেলার সিভিল সার্জন ডা. সৈয়দ ইবনে সাঈদ এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রি. জেনারেল. মোঃ মাহবুবুর রহমান। সভাপ্রধানের দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী, প্রোগ্রাম ম্যানেজার, এন্টি-টোবাকো প্রোগ্রাম, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ।

এই সম্মেলনে জানান হয়, সমগ্র বিশ্বে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মানুষ ধোাঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহার করে। এর মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারকারী শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর একটি। বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার ৪৩.৩ শতাংশ (প্রায় ৪ কোটি) মানুষ তামাক দ্রব্য ব্যবহার করে। এর মধ্যে ৩৪ লক্ষ নারী ধোঁয়াবিহীন তামাক দ্রব্য যেমন-জর্দা, গুল, সাদাপাতা ব্যবহার করেন। অপর দিকে তামাক চাষ দিন দিন বাড়ছে। ২০১১ সালের চেয়ে তামাক চায়ের জমি বর্তমানে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে এক লক্ষ আট হাজার হেক্টরে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০৩০ সাল নাগাদ তামাকদ্রব্য ব্যবহার জনিত মৃত্যুর পরিমাণ বছরে ৮০ লক্ষ ছাড়িয়ে যাবে। এ পরিস্থিতি থেকে সঠিক পথ অবলম্বন করার সময় এখনই। তামাকের ক্ষতি থেকে নারীদের রক্ষার জন্য সচেতনতা সৃষ্টি এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের কার্যকর প্রয়োগে সরকারী উদ্যেগকে শক্তিশালী করাই তাবিনাজ সম্মেলনের উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশের ৬৩ জেলার নারী প্রধান সংগঠন, তামাক বিরোধী নারী জোটের সদস্য, ধূমপান ও তামাক নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত সংগঠন ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, ঢাকা জেলার নারী সংগঠন, লেখিকা, তামাক চাষ এলাকার ভুক্তভোগী কৃষক, দাইমা, পরিবেশবাদী সংগঠন, চিকিৎসক এবং সাংবাদিকবৃন্দ এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। সারা দেশের ২৫০ জনের উপস্থিতিতে গার্লস গাইড এসোসিয়েশ অব বাংলাদেশ এর সদস্যদের নেতৃত্বে শপথ পাঠের মধ্য দিয়ে তাবিনাজ সম্মেলন- ২০১৫ শেষ হয়।


তাবিনাজ সম্মেলনের শপথ পাঠ


তাবিনাজ সম্মেলন, ২০১৫ শপথ পাঠ

আমরা সারা দেশের ৬৪ জেলার ২৫০ জন তামাক বিরোধী নারী জোটের (তাবিনাজ) সদস্য, ধূমপান ও তামাক নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত সংগঠন ও নাগরিক সমাজ ‘ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্য এবং তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণে নারীর ভূমিকা’ শীর্ষক তাবিনাজের সম্মেলন, ২০১৫-এ এসে শপথ করছি।

  • আমরা তামাকের বিষাক্ত ছোবল থেকে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ সকলকে রক্ষার জন্যে নারীদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলবো।
  • আমরা বিশ্বাস করি দেশের জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায়ে, শহরে, বন্দরে কাজ করে তামাকজাত দ্রব্য যেমন বিড়ি, সিগারেট, জর্দা, গুল, সাদাপাতা ব্যবহারের ক্ষতি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারবো।
  • আমরা নারীদের জন্যে ক্ষতিকর ধোঁয়াবিহীন তামাক দ্রব্য যেমন-জর্দা, গুল, সাদাপাতা অবিলম্বে উৎপাদন ও বিক্রি নিয়ন্ত্রণের জন্যে কাজ করবো।
  • সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য হলেও আমরা জর্দা, গুল, সাদাপাতা ব্যবহারের ক্ষতি সম্পর্কে সচতনতা সৃষ্টি করবো।
  • আমরা ধোঁয়াবিহীন তামাক দ্রব্য উৎপাদন, বিক্রি ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের জন্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো।
  • আমরা তামাক পাতা চাষের কারণে সৃষ্ট কৃষকের স্বাস্থের ক্ষতি, খাদ্য ঘাটতি ও পরিবেশ দূষণের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি করবো।
  • আমরা তামাকপাতা চাষ বন্ধ করে কৃষক যেন খাদ্য ফসল উৎপাদন ও বিক্রি করতে পারে তার জন্যে উদ্যোগ নেবো।
  • আমরা বিড়ি ও জর্দা উৎপাদনে নিয়োজিত শ্রমিকদের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সরকারের কাজে সহযোগিতা করবো।
  • আমরা তামাক চাষ, বিড়ি উৎপাদন ও জর্দা, সাদাপাতা বিক্রয়ের জন্যে শিশুদের ব্যবহারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবো।
  • আমরা বাংলাদেশে সকল প্রকার তামাকজাত দ্রব্য, বিশেষ করে জর্দা, গুল, সাদাপাতা ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে বিশ্বে উদাহরণ সৃষ্টি করবো।

ছাপবার জন্য এখানে ক্লিক করুন


৫০০০ বর্ণের অধিক মন্তব্যে ব্যবহার করবেন না।