মনসান্তোর বীজ ডাকাতি রুখে দাঁড়াও, বীজ সম্পদ রক্ষায় বাংলাদেশের কৃষক এক হও


২৩ মে বিশ্ব মনসান্তো বিরোধী সংগ্রাম দিবস
নয়াকৃষি আন্দোলনের ডাক

মনসান্তো কোম্পানির বীজ ডাকাতি রুখে দাঁড়াও
বীজ সম্পদ রক্ষায় বাংলাদেশের কৃষক এক হও

বহুজাতিক কোম্পানি মনসান্তোর বিরুদ্ধ্বে সারা বিশ্বের ৩৮টি দেশে ৪২৮টি শহরে ২৩ মে শান্তিপুর্ণ সমাবেশ ও মিছিলের মধ্য দিয়ে হাজার হাজার মানুষ প্রতিবাদ জানাচ্ছে। বাংলাদেশে এই প্রথম পরিবেশবাদী সংগঠন ও কৃষক সংগঠন এক্ত্র হয়ে এই প্রতিবাদের শামিল হয়েছে। রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি নয়াকৃষি আন্দোলনের কৃষকরা জেলা পর্যায়ে কৃষক সমাবেশ করছে। বাংলাদেশের মতো কৃষি নির্ভর ও বৈচিত্রপুর্ণ বীজের দেশে মনসান্তো জেনিটিকালী মডিফাইড বীজের প্রবর্তনের নামে আমাদের স্থানীয় জাতের বীজ দখল করে নিজের নামে পেটেন্ট করে নিচ্ছে। এই বীজ ডাকাতি বন্ধ করতে হবে।

অন্যদিকে মনসান্তোর তৈরি আগাছানাশক রাউন্ড-আপ রেডি (Roundup Ready )  ব্যাপকহারে ব্যবহারের কারণে ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে কৃষক ও ভোক্তারা। এখন তাই বিশ্বে সবাই এক হয়ে তাদের প্রতিহত করার জন্য সংগ্রাম করছে।

বাংলাদেশে মনসান্ত সরাসরি তার ব্যবসার ফাঁদ তৈরি করেছে। আমাদের দেশের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি ফসল বেগুনের নয়টি জাতের গঠনে বিকৃতি ঘটিয়ে সরকারের মাধ্যমে দেশব্যাপী চাষ করাবার ব্যবস্থা করেছে। অথচ বিকৃতি ঘটাবার টেকনলজির ওপর পেটেন্ট তাদের। আমরা উত্তরা, কাজলা, নয়নতারা, শিংনাথ, ঈশ্বরদী-৬, ইসালামপুরি, দোহাজারীসহ নানান জাত হারাতে বসেছি।  জাতগুলো বিটি করা হয়েছে। বিটিবেগুন চাষ ব্যর্থ হয়েছে এবং কৃষকদের অনেক লোকসান হয়েছে তবুও তারা মিথ্যে তথ্য দিয়ে এর সফলতা প্রমান করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

নয়াকৃষির কৃষকরা ঘোষণা দিচ্ছে আমাদের দেশীয় জাতের বীজের ওপর কোন হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না। বেগুনের মধ্যে জেনেটিক ইঞ্জিনীয়ারিং করে বিটি বেগুন করা চলবে না। এর মাধ্যমে স্থানীয় জাতের বেগুনের ওপর হুমকি সৃষ্টি হয়েছে। এই বিটি বেগুন মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য হুমকি তবুও মনসান্তো কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ছদ্মবেশে এই বাজার দখল করে নিচ্ছে। চাষের অনুমতি দেয়ার সময় বলা হয়েছিল বিটি বেগুন বাজারে বিক্রি করতে হলে লেবেল লাগাতে হবে। কিন্তু তারা সেটা করে নি। কারণ তারা জানে এই বেগুন ক্ষতিকর।

আমাদের দেশে শত শত জাতের বেগুন বিভিন্ন জেলায় উৎপাদিত হয়। আমাদের কোন বিটি বেগুনের প্রয়োজন নেই। খাদ্য নিরাপত্তার মিথ্যে অজুহাত দেখিয়ে মনসান্তো বাংলাদেশে বিটি বেগুন উৎপাদন করে সারা বিশ্বে লক্ষ কোটি ডলারের বাজার দখল করতে চাচ্ছে। দেশীয় বেগুনের এই ডাকাতি আমাদের রুখতেই হবে।

শুধু বেগুন নয়, মনসান্তো বিটি তুলা, টমেটো, আলু ও বিশেষ করে ধানের ওপর দখল নিতে চাচ্ছে।

মনসান্তোর তৈরি রাউন্ড আপ রেডী একটি আগাছা নাশক বিষ। এই বিষ ব্যবহার করলে মূল গাছটি ছাড়া সকল প্রকার সবুজ ঘাস, অনাবাদী শাক সহ কিছুই থাকে না। মরে যায়। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণায় রাউন্ড আপ রেডী ক্যান্সার সৃষ্টিকারি বিষের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। অথচ মনসান্তো জেনেশুনে ১৯৯০ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ১৬ গুন বেশী ব্যবহার করছে। বাংলাদেশে চা বাগানে এই বিষ দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করছে, অথচ জনগণ এই তথ্য আনে না।

নয়াকৃষি আন্দোলনের কৃষকদের পক্ষ থেকে আমরা বলতে চাই যে আমাদের জিএম খাদ্য ফসলের কোন দরকার নেই। জিএম খাদ্য ফসল খাদ্য নিরাপত্তা দেবে না, এটা কেবল কোম্পানির মুনাফা বাড়াবে। আমাদের ধান সব্জি, তেল, ডাল সহ খাদ্য ফসলের যে বিশাল বীজ সম্পদ আছে তা রক্ষা করা আমাদের প্রধান কর্তব্য। আমরা বীজ ডাকাতি বরদাশত করবো না। আমাদের বীজ সম্পদ আরা নিজেরাই রক্ষা করবো।

বিশ্বব্যাপী মনসান্তো বিরোধী সমাবেশ ও মিছিল সম্পর্কে জানতে হলে দেখুনঃ

www.March-Against-Monsanto.com

Facebook: https://www.facebook.com/events/1629467067274281/


ছাপবার জন্য এখানে ক্লিক করুন


৫০০০ বর্ণের অধিক মন্তব্যে ব্যবহার করবেন না।