মধু খাওয়ার স্মৃতি


ছোট বেলায় কারো দুরন্ত পনার শেষ নেই। তেমন আমারও ছিলনা। সেই দুরন্তপনা ছিল খুব আনন্দ দায়ক ও মধুময়। যতদুর মনে পড়ে মাসটি ছিল খুব সম্ভবত মাঘ/ফালগুন। আমার বয়স তখন ১০/১১ বছর হবে। সব সাথীদের নিয়ে বাড়ির পাশে এক ঝোপের ধারে খোলা জায়গায় বিকেল বেলায় বৌ-ছি খেলছিলাম। তখন চোখে পড়ে গেল ছোট একটি ডুমুর গাছের ডালে একটি মৌমাছির চাক সেই মৌচাক থেকে মধু আহরণ করার যে কি মজা তা বলে হয়তো বুঝাতে পারবো না। সাথীরা সবাই বলছে মধু যা মিষ্টি। কেউ বলছে এই চাকে কি মধূ আছে? কেউ বলছে এই সময়েই তো চাকে মধূ হয় কারণ এখন সরিষা ফুলের সময়। নিশ্চয়ই মধু আছে। কেউ বলছে জানিস পূর্নিমার রাতে মধুর চাক কাটে।

কিন্তু বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধবে কে? মধু মিষ্টি ঠিক কিন্তু মৌমাছির হুল যার শরীরে একবার ফুটেছে সে বুঝেছে হুলের যন্ত্রণা কি? কেউ সাহস করছেনা কাছে যেতে। কিন্তু ঐ যে বলছি না দুরন্তপনা। আমি নাছোর বান্দা মনে যেহেতু মধু খাওয়ার লোভ জেগেছে না খেয়ে ছাড়ছি না।


 

মৌ চাক


চট করে মাথায় একটি বুদ্ধি এসে গেল। পাশেই ছিল গরুর ঘর। ঘরের সিলিং (কার) এর উপর ছিল পাট খড়ি। দৌড়ে গিয়ে একটি পাট খড়ি এনে কাপড় দিয়ে মুছে খড়ির দুই মাথা সমান করে ভেঙ্গে পরীক্ষা করে নিলাম বাতাস বের হয় কিনা? তার পর খড়ির এক অংশ আস্তে আস্তে মৌচাকে ঢুকিয়ে দিলাম। পাট খড়ির অপর অংশ মুখে দিয়ে জোরে জোরে চুষতে লাগলাম।

 

‘কথায় বলে না-পরিশ্রমে ধন আনে

পুণ্যে আনে সুখ’।

কষ্ট করলেও সত্যিই এক সময় দেখি জিহ্বায় আঠা আঠা মিষ্টি অনুভব করছি। সবাই তখন হৈহৈ করে উঠছে। এবার সবার মধূ খাওয়ার পালা। এক এক করে সবাই এসে পাট খড়ির মধ্যে মুখ দিয়ে খুব সাবধানে মৌচাকে নাড়াচাড়া না দিয়ে চুষে চুষে মধূ খেয়ে তৃপ্তি সহকারে বাড়ি ফিরে গেলাম। আরো একটি ঘটনা না বলে পারছিনা। যেমন মধূ খেয়ে তৃপ্তি পেয়েছি তেমনি এর পেছনে একটি করুণ ইতিহাস ও রয়েছে আমার জীবনে। আমার এক চাচাতো বোন ছিল সে তাদের বাড়ির পেছনে একটি কুল গাছ ছিল। এক দিন সে কুল গাছের নীচে দাঁড়িয়ে ছিল। গাছে পাকা কুল দেখে দূর থেকে কে যেন ঢিল ছুঁড়ে ছিল। তখন মৌচাকটি ভেঙ্গে তার গায়ে পড়ে। মৌমাছিরা সারা শরীরে হুল ফুটায় হুলের যন্ত্রণায় কয়েক দিন পর তার মৃত্যু হয়। এই হাসি কান্নায় জড়িয়ে আছে আমাদের জীবন ব্যবস্থা।

এখন আসি মধূর কিছু ওষুধি গুণ নিয়ে। মধূ শক্তিবর্ধক। মধূ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। মধু খেলে রক্তে হেমোগ্লোবিনের পরিমাণ বাড়ে। সর্দি কাশিতে তুলশি পাতার রসের সাথে অল্প মধূ মিশিয়ে খেলে সর্দি কাশিতে উপকার হয়। শীতকালে যাদের শ্বাস কষ্ট হয় তারা গরম পানির সাথে অল্প মধু নিয়মিত কয়েক দিন খেলে উপকার পাবেন। এলার্জি নিয়ন্ত্রণ করে। পুরা ঘায়ে মধূর প্রলেপ ডেসিং হিসেবে ব্যবহার করা যায়। রূপ চর্চায় মধূ ব্যবহার করা হয়।

আজ কাল আর সেই ধরনের মৌচাক চোখে পড়ে না। পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাওযার কারণে মৌমাছির বিলুপ্তি ঘটছে। মৌমাছি টিকিয়ে রাখতে হলে পরিবেশ ঠিক রাখা খুবই জরুরী।


Click Here To Print


Comments Must Be Less Than 5,000 Charachter