এশিয়া প্যাসিফিক রিসার্চ নেটওয়ার্কের সম্মেলন ২০১৭


গত ৬ -৭ মে ২০১৭ তারিখে জাপানে Asia Pacific Research Network's (APRN) আয়োজনে বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনের শিরোনাম ছিল Resisting Militarism, Building Peoples Democracy । এ সম্মেলনে এশিয়া প্রশান্ত মহা-সাগরীয় অঞ্চলের জনগনের কাছে সামরিকীকরন ও সামরিক শাসকদের নীতির প্রভাব একই সাথে জনগনের প্রতিরোধের বিষয়টা তুলে ধরা হয়েছে।

মিলেটারিজাম ও যুদ্ধের বিপরীতে জনগনের আন্দোলন ও তাদের সংগ্রাম রয়েছে। এই কঠিন সময়ে এ আন্দোলনগুলোর বিশ্লেষণ করে দক্ষতার সাথে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। পৃথিবীতে প্রতিরোধের ইতিহাস রয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসকে কাজে লাগিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার মনোভাব গড়ে তুলতে হবে। এশিয়া প্যাসিফেক নেটওয়ার্ক (APRN) Resisting Militarism Building Peoples Power on Democracy স্লোগান নিয়ে এ সম্মেলনের আয়োজন করে। APRN কে সহযোগিতা করেছে Pacific Research Network , Pacific Asia Resource Center, Asia Wide Campaign, Japan Lawyers International Solidarity Action, Japan Young Lawyers Association, Asia Pacific Mission for Migrants.

এ সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রতিরোধের জন্য সংগ্রামের বজায় থাকা। জ্ঞান চর্চার মাধ্যমে একটি জায়গা করা যেন সামরিকীকরণের বিপরীতে জনগনের সংগ্রাম বজায় থাকে। তবে কাজটি সহজ নয়, অনেক প্রতিবন্ধকটা রয়েছে, সেগুলি চিহ্নিত করে কৌশল নির্ধারন করতে পারে। বিশেষ করে জনগণের প্রতিরোধ সংক্রান্ত প্রচার শুরু হতে পারে। দুই দিন ব্যাপি এ সম্মেলনে এ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ থেকে কর্মীরা একত্রিত হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে এ সম্মেলনে উবিনীগের প্রতিনিধি সহ কয়েকজন অংশগ্রহন করেছেন। Militarism এর প্রভাব নিয়ে আন্দোলনের একাত্মতা জানাতে সকলের মিলিত প্রচেষ্টা। সম্মেলন শুরু হয় সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সেখানে ৩ টা গান পরিবেশন করে। সে গানের মূল বক্তব্য ছিল মেলিটারিজাম এর প্রভাব এবং প্রতিরোধ, প্রতিবাদ, প্রতিহত করার আহবান।


APRN conference 2017


আলোচকরা বলেন, সম্পদের করনে ক্ষমতার লড়াই উঠে আসে, জনগণ ও সম্পদের উপর ক্ষমতা বজায় রাখার জন্য সামরিকীকরন করা হয়। এ অবস্থায় আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। গণতান্ত্রিক অবস্থান ফিরে আনার জন্য Advocacy করা এবং দাবী করা। তাহলে এ আন্দোলনের ফলে গণতন্ত্র পুণদ্ধার হবে বা থাকবে, কিন্তু সাথে জনগনের সম্পৃক্ততা থাকতে হবে।

ইন্দোনেশিয়ায় সামরিকীকরন দিনে দিনে বাড়ছে। সেখানে আশে পাশে দেশে টেনশান চলছে, যুদ্ধ না থাকলেও করপোরেট ইন্টারেষ্ট ও উন্নয়ন প্রকল্পগুলো চালানোর জন্য সামরিকীকরন বিরাজ করছে। পশ্চিম পাপুয়া নিউগিনিতে সেনাবাহিনীরা জমি দখল করছে। এদিকে রহিন্দা সম্প্রদায়ের উপর সামরিক ও পুলিশ আক্রমন করছে। ৩০ লক্ষ রহিন্দা পৃথিবীতে বাস করে রিফুউজি নামে।

ওকিনাওয়া জাপানের অংশ কিন্তু সেটা আমেরিকার ঘাটি ছিল বিশ্বযুদ্ধের পর। ১৯৭২ সালে সেটা আবার জাপানের কাছে ফেরত গেলও তারপরেও ১০% আমিরিকার দখলে ছিল। কৌশলগত ভাবে এই জায়গা আমেরিকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারন এটা চায়নার অনেক কাছে। এ ছাড়া ফিলিপাইন ও গুয়ামের একই ভাবে ব্যবহার হয় এশিয়ার মধ্যে তাদের কর্তৃত্ব রাখার জন্য। বিশ্বের সবচেয়ে সামরিকীকরন অঞ্চল হচ্ছে এশিয়া পেসিফিক। এক সমিক্ষায় দেখা গেছে ২০১৫ সালে এ অঞ্চলে সম্মিলিত ভাবে মেলিটারিদের খরচ হিসাবে ১৬২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হয়েছিল। এ অঞ্চলের সামরিক ব্যয় অনেক বেড়ে যাচ্ছে। অস্ত্র আমদানির ক্ষেত্রে এশিয়া প্যসিফিক দেশগুলো শীর্ষে রয়েছে, ২০১১ থেকে ২০১৫ এর মধ্যে অস্ত্র আমদানি ৪% বৃদ্ধি পেয়েছে। এশিয়া প্যাসিফিকের মধ্যে সামরকীকরনের মূল ভিত্তি military industrial complex যা চলমান দন্ডকে টিকিয়ে রাখছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যে অস্ত্র তৈরী হয় তার এক তৃতীয় অংশ তৈরি হয় এশিয়া প্যাসিফিক এর দেশের জন্য।

বড় করপোরেশান গুলো দারিদ্র হ্রাসের নামে, কর্মসংস্থান সৃষ্টির নামে, বিপুল সম্পদ গুটিয়ে নিচ্ছে । দখল এবং শোষন করে উদারনীতি, নিয়ন্ত্রণ এবং বেসরকারী করনে বিশ্বের নীতিগুলি সাধারণ মানুষের দুঃখ কষ্ট বাড়াচ্ছে এবং পরিবেশ নষ্ট করছে । এ নীতিগুলি ঋণ, মুক্ত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি ইত্যাদির মাধ্যমে উন্নয়শীল দেশগুলোর ওপর চাপিয়ে দেয় এবং স্থানীয় আইনের মাধ্যমে এগুলোকে শক্তিশালী করে। যা জনগনের অধিকার হরণ হয়। অধিকার আদায়ের কারনে যদি কেউ বিক্ষোভ করে তবে সেই আন্দোলনকে প্রত্যাখ্যান করে সেনা বাহিনীকে সক্রিয় করে তোলে সেই আন্দোলনের বিপরীতে।

পুঁজিবাদী বিশ্বব্যবস্থায় এখন সারা বিশ্বে অস্থিরতা ছড়াচ্ছে। ২০০৮ সালের পর থেকে বিশ্বে অর্থনৈতিক সংকটের অস্থিরতা চলছে। এ সংকট থেকে বেড়িয়ে আসার নামে আমেরিকার নেতৃত্বে বড় কোম্পানীগুলো অঞ্চলে সস্তা শ্রম, মুক্ত বাজার, সরবরাহ এই গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে। সম্পদ ও বাজারের নিয়ন্ত্রনের জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুদ্ধ পর্যন্ত লেগে যায়। এখন সেনাবাহিনী মোতায়েন একটি সাধারণ সমাধান।

এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে আমেরিকা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসাবে যুক্ত করছে। স্বাধীনতা ও গনতন্ত্রের নামে আমেরিকা তার অর্থনৈতিক স্বার্থ কেবল পশ্চিম এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকাতে রক্ষা করছে না, বরং এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক স্বার্থও রক্ষা করছে কারন রাশিয়া ও চীনের মত রাষ্ট্রের ক্ষমতা আমেরিকার জন্য হুমকি হিসাবে দেখা হয়।এ দিকে চীন পূর্ব ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলির নিয়ন্ত্রণ অর্জনের জন্য সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে। ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন এবং অন্যান্য দেশ তাদের সামরিক খাতে ব্যায় বাড়িয়ে দিয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলি সামরিক শাসক নীতিমালা ব্যবহার করে নিজেদের ক্ষমতা রক্ষা করার জন্য ।

জনগনকে দমন করার জন্য আমলা পুলিশ ও সামরিক বাহিনী ও আইনকে ব্যবহার করে। উদাহরণ হিসাবে ফিলিপাইনের সেনাবাহিনী ও আধাসেনাবাহিনী মধ্যে বিছিন্নতার,পশ্চিম পপুয়ান ইন্দোনেশিয়ার মিলিটারীর ভুমিকা উদাহরণ হিসাবে আসে। এ সমস্ত কিছু প্রভাব পড়ে নারী, শ্রমিক, কৃষক, মাইগ্রেন্ট এবং রিফুউজিদের উপর এবং পুরো দমন মূলক ব্যবস্থা প্রকৃত অধিকারকে খর্ব করছে।

এ সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য সামরিক বাহিনী প্রতিরোধ এবং জনগনের ক্ষমতা ও গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য কার্যক্রম চালিয়ে নেয়ার বিষয়টি বাংলাদেশের জন্যেও খুব গুরুত্বপুর্ণ।


Click Here To Print


Comments Must Be Less Than 5,000 Charachter