বেগুনের বৈচিত্র্যের দেশ-বাংলাদেশ


বেগুন বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় সব্জি এবং বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি জমিতে চাষ করা হয় পাশাপাশি বিদেশেও এর চাহিদা রয়েছে। বেগুন প্রায় সারাবছরই চাষ করা যায়। তবে শীত মৌসুমে ফলন বেশি হয়। এ দেশে বহু জাতের স্থানীয় জাতের বেগুন রয়েছে। বেগুনের আদি নিবাস দক্ষিন এশিয়া এবং এর ইংরেজি নাম Brinjal  ও বৈজ্ঞানিক নাম  lanum melongena. বেগুন গাছ প্রায় ৪০  থেকে ১৫০ সেমি লম্বা হয়। পাতাগুলো ঘন এবং ১০ থেকে ২০ সেমি পর্যন্ত প্রশস্ত হয়। বুনো বেগুন আরো বড় হয়। বেগুনের ফুল সাদা হতে গোলাপি বা হালকা  বেগুনী বর্নের হয়। ফুলে পাঁচটি পাপড়ি থাকে। বেগুনের ফল বেগুনী বা সাদা (সবুজ) এবং গাঢ় বেগুনী (কালচে) বর্নের হয়। বেশ কিছু জাত আছে যা অনেকটা লম্বাটে নলাকৃতির হয়ে থাকে এবং কিছু জাত আছে যেগুলো অনেক মোটা ও বড় আকৃতি এবং গোল হয়। এছাড়াও গ্রামে কৃষকের বিশেষ কিছু বেগুনের জাত (কাটা বেগুন,বল বেগুন)  আছে। জাতগুলোর বৈশিষ্ট হলো গাছ,ডাল, পাতা এবং বেগুনের ফলে অনেক কাটা  থাকে যারফলে কৃষকের এই বিশেষ বেগুনের জাতগুলো জমির আইলে চারপাশে রোপন করলে ফসলের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা হয়। আমাদের দেশে চট্রগ্রাম,যশোর, ঝিনাইদহ, ময়মনসিংহ, জামালপুর, রংপুর,দিনাজপুর, বগুড়া,টাংগাইল এবং পাবনা ইত্যাদি এলাকায় বেগুন বেশি উৎপাদিত হয়। তবে গ্রামের প্রতিটি কৃষকের বাড়ির আঙ্গিনায় একটু নজর দিলে বৈচিত্র্য বেগুনের জাত দেখা যায়। একটি ছোট পরিবারে ১০ থেকে ১৫ টি বেগুনের গাছ থাকলে সারা বছর আর বেগুন কিনে খেতে হয়না। বেগুন যেকোন সব্জির সাথে মানিয়ে যায়। শুধু তায় নয় এই সব্জির মধ্যে রয়েছে প্রোটিন, শর্করা, খনিজ লবন, ভিটামিনসহ অনেক পুষ্টিগুন। আমাদের দেশে প্রায় সারা বছরই বেগুন পাওয়া যায়। তাই কমবেশি সবার কাছেই সবসময় এর চাহিদা থাকে। আমাদের দেশে তরকারি ছাড়াও বেগুন ভাজি,সিদ্ধ বা আগুনে পুড়িয়ে ভর্তা হিসেবে খাওয়া হয়। বাংলাদেশে ইফতারের জন্য নানান জাতের বেগুনের বেগুনী একটি জনপ্রিয় খাবার।


 

চেগা


এছাড়াও রমজান মাসে বেগুনের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। বাংলাদেশে কৃষির অন্যান্য ফসলের মতো  স্থানীয় জাতের বেগুনের বৈচিত্র্য আছে অনেক। বেগুনের জাতগুলো বাংলাদেশে টিকে আছে গ্রামের কৃষক এবং  নারীদের প্রচেষ্টায়। বেগুনের বিভিন্ন জাতগুলো কৃষকের জমি ও  বাড়ির আঙ্গিনায় চাষাবাদে সারাবছরের খাদ্যের যেমন যোগান হয় তেমনি বীজ সংগ্রহ করে জাত গুলো টিকিয়ে রেখে বাংলাদেশের প্রাণবৈচিত্র্য পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর সহায়কও বটে। কৃষক ও নারীদের জন্যই বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকাতে টিকে আছে বিভিন্ন জাতের বেগুন সহ হাজারো শস্যর জাত। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার হিসাব মতে অন্তত ২৪৭ টি, এলাকাভেদে কৃষকরা কমপক্ষে ৪০ জাতের বেগুন চাষ করেন। নয়াকৃষি আন্দোলনের কৃষকদের সংগ্রহে প্রায় ৩০ জাতের বেগুন আছে যা চাষ করতে কোন প্রকার কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় না। গুরুত্বপূর্ন একটি বিষয় না জানিয়ে পারছি না, উবিনীগ, নয়াকৃষি আন্দোলনের- নয়াকৃষি কৃষকের মাধ্যমে পাবনা জেলার আঞ্চলিক কেন্দ্র, আরশিনগর বিদ্যাঘরে অবস্থিত বীজ সম্পদ কেন্দ্রে স্থানীয় ১৭ টি বেগুনের জাত সংগ্রহ ও সংরক্ষন করা হয়েছে ।


 

উত্তরা


 জাতগুলো হলো-

 

১. সাদা ঢেপা বেগুন

২. ঘৃত কাঞ্চন বেগুন

৩. যশোরী বেগুন

৪. তবলা বেগুন

৫. ইসলামপুরি চইড়া বেগুন

৬. শিংনাথ বেগুন

৭. ঝুমকা বেগুন

৮. সাদা বল বেগুন

৯. কাটা বেগুন

১০. উত্তরা বেগুন

১১. ইসলামপুরি বেগুন

১২. মুক্ত কেশী বেগুন

১৩. হারসীতা বেগুন

১৪. চেগা বেগুন

১৫. ইসলামপুরি সাদা বেগুন

১৬. বেসুরি লম্বা বেগুন

১৭. সইলা বেগুন

উক্ত জাতগুলো সংগ্রহ ও সংরক্ষন করা হয়েছে এবং গবেষণার মাধ্যমে কৃষকের হারিয়ে যাওয়া জাতগুলো চাহিদা অনুসারে কৃষকের হাতে পৌছে দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অন্যান্য বেগুনের জাত সংগ্রহের কাজ চলছে। আশা করি একদিন হারিয়ে যাওয়া প্রতিটি বেগুন জাত সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।

তাই আসুন স্থানীয় জাতের বেগুন রক্ষা করি।

দেশের বীজ সম্পদ বাড়িয়ে কৃষি ব্যবস্থাকে টেকসই করে প্রাণবৈচিত্র্য নির্ভর কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলে প্রাণসম্পদের প্রাচুর্যতা বৃদ্ধি করি ।


Click Here To Print


Comments Must Be Less Than 5,000 Charachter