‘আমাদের কুড়িয়ে পাওয়া শাক’গবেষণা গ্রন্থটি দ্বিতীয় সংস্করণ বের করতে পেরে আমরা খুশি। প্রথম সংস্করণ ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। তবে দ্বিতীয় সংস্করণে আমরা কিছুটা পরিবর্তন করেছি। আশা করি পাঠকরা এই গ্রন্থ ব্যবহার করে প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষার সাথে আমাদের খাদ্যের যোগানোর সম্পর্কটি উপলব্ধি করতে পারবেন।
দক্ষিণ এশিয়ায় মানুষের জীবনধারণ প্রাণবৈচিত্র্যের ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশের মতো দেশেও খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্নটি শুধুমাত্র আবাদী ফসলের ওপরই নির্ভরশীল নয়। আমাদের চারিদিকে অনেক কিছু গড়ে ওঠে যা আবাদ করা হয় না কিন্তু খাওয়া হয়। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ধরণের খাদ্যাভ্যাস আছে। এ খাদ্যকে আমরা কুড়িয়ে পাওয়া খাদ্য বলে আখ্যায়িত করেছি। কারণ যা (আরো পড়ুন )
নাম: রং বাহার বয়স ৫৬ বছর গ্রাম: গোয়ারিয়া স্বামী; মৃত আনোয়ার হোসেন
তিন ডিসিমল জায়গার উপরে বাপের বাড়ি সেখানে ভাইয়েরা একটি ঘর উঠানোর জায়গা দিয়েছে। চার চালা একটি পুরানো ঘর আছে।
পরিবারের সদস্য সংখ্যা আগে ছিল ৪ জন। এখন নিজে একা থাকেন। মা মারা গেছে। মেয়ে বিয়ে হয়ে শশুর বাড়ি চলে গেছে। নাতী আমার কাছে থেকে লেখা পড়া করতো সে এখন থাকেনা।
রং বাহার বলেন, আমি বাপের বাড়িতে থাকি। ভাইরা আলাদা থাকে আমি আলাদা থাকি। আগে মানুষ বেশি ছিল চাল বেশি লাগতো। এখন একদিনের জন্য আমার আধা কেজি চালের ভাত লাগে। আগে সকালে উঠে চাল পানি খেয়ে চকে (জমিতে) শাক তুলতে যেতাম। এই মৌসুমে শাক কম একটু বৃষ্টি হলে অ (আরো পড়ুন )
আছিয়া বেওয়া: টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার থানার আটিয়া ইউনিয়নের কান্দাপাড়া গ্রামের আছিয়া বেওয়ার বাড়ি। বয়স ৫৬ বছর। স্বামী মৃত লাল মিয়া। পরিবারে সদস্য সংখ্যা ৫ জন। ২০ বছর আগে স্বামী মারা গেছে। স্বামী মারা যাওয়ার আগে বেশ কিছু দিন অসুস্থ্য ছিল কোন কাজ করতে পারে নি। দীর্ঘদিন তার চিকিৎসা করতে হয়েছে। তখন ছেলে কাজ করতে পারতো না। ঐ সময় অনেক টাকা ঋণ হয়েছিল, ছেলে তাঁতের কাজ করে সে কিস্তি দিয়েছে। ঋণের টাকা শোধ হয়েছে । আর আছিয়া বেওয়া নিজে কাজ করে নানা ভাবে সংসার চালাতেন। এখন ছেলেদের সাথে থাকেন। স্বামী মারা যাওয়ার সময় তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছে। বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। বড় ছেলেকে ৪র্থ শ্রেণী পর্যন্ত (আরো পড়ুন )
রহিমা বেগম বয়স ৬৭ বছর। স্বামী মৃত কাঞ্চু মিয়া।
টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার থানার আটিয়া ইউনিয়নের মৌসাকাঠালিয়া গ্রামে রহিমা বেগমের বাড়ি। পরিবারের সদস্য সংখ্যা চার জন। আগে তার কোন জমা-জমি ছিল না। শুধু বসতবাড়ি ১৪ শতাংশ তার মধ্যে দোচালা একটি ঘর ছিল। রহিমা বেগমের পরিবার আগের চেয়ে অনেক স্বচ্ছল হয়েছে। তার স্বাস্থ্য আগের চেয়ে অনেক ভাল হয়েছে। সে এখন অনেক হাসি খুশি থাকে। নিজে অনেক কষ্ট করে বাড়ির পেছনে সামান্য জমি কিনেছেন। তাতে নানা ধরনের মৌসুমি শাক সবজি লাগিয়েছেন। তার ঘরে এখন বিদ্যুৎ আছে ফ্যান আছে, ইষ্টিলের আলমারী, সুন্দর কাঠের খাট, সুকেচ আছে। তাকে এখন আর আগের মত না খেয়ে কষ্ট করতে হয়না। তিন বেলা ভাত খেতে পারেন। তিনি কুড়িয়ে পাওয়া খাদ্য দিয়ে (আরো পড়ুন )