শাক সবজি ও ফলমূল ক্যান্সার প্রতিরোধ করে


ক্যান্সার একটি ভয়ংকর ব্যাধি। ক্যান্সার সম্পর্কে জনমনে যেমন ভীতি আছে তেমনি আছে অস্পষ্টতা। যদিও ৮০% ক্যান্সারের কারণ মানুষের জানা। এর মধ্যে ৩০% তামাক সেবনের ফলে, ৫০% খাদ্যের কারণে এবং ২০ % কারণ এখনও অজানা। জানা কারণগুলি সম্পর্কে সচেতন ব্যবস্থা নিলেই ক্যান্সার এড়িয়ে চলা যায়।

ক্যান্সার সৃষ্টি হয় যখন কোন একটি কোষ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। এসব অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যাওয়া কোষগুলি সুস্থ সবল কোষের উপর আক্রমণ চালায় এবং ক্রমে ক্রমে এ আগ্রাসন দেহের বিভিন্ন অংশে বিস্তৃত হয়।

কার্সিনোজেন নামক এক পদার্থ ক্যান্সার সৃষ্টি করে। খাদ্য, বাতাস এমনকি শরীরের ভিতর থেকেও কার্সিনোজেন সৃষ্টি হতে পারে। অধিকাংশ কার্সিনোজেন প্রাকৃতিক ভাবেই নিস্তেজ হয়ে যায়। কিন্তু কখনো কখনো কোষের কৌলিক ভিত্তি (ডি এন এ) তে আঘাত হানে এবং পরিবর্তন ঘটায়। ক্যান্সারের দৃশ্যমান লক্ষণ প্রকাশের জন্য বছরের পর বছর লেগে যেতে পারে। এ সময়ের মধ্যে দেহ অভ্যন্তরে প্রতিরোধ শক্তি তৈরি হয় যা ক্যান্সার কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি থামিয়ে দিতে পারে। উদ্ভিজ উৎসের অনেক খাদ্যের মধ্যে এমন উপাদান আছে যা ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি থামিয়ে দিতে পারে। অন্য দিকে প্রাণীজ উৎসের চর্বি জাতীয় খাবার ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে। উদ্ভিজ উৎসের আঁশ সমৃদ্ধ খাদ্য ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি প্রতিরোধ করে।

আন্তর্জাতিক ভাবে পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যেসব দেশের মানুষ উদ্ভিজ উৎসের খাবার বেশী খায়, তুলনা মূলক ভাবে যেসব দেশের মানুষ প্রাণীজ উৎসের খাবার বেশী খায় তাদের চেয়ে কম পৌষ্টিকনালীর ক্যান্সার আক্রান্ত হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য পশ্চিমা উন্নত দেশের মানুষ প্রাণীজ উৎসের খাবার বেশী খায় ফলে তারা বেশী মলাশয়ের ক্যান্সারে ভোগেন।

পরীক্ষায় আরো প্রমাণিত হয়েছে যে যারা আঁশ সমৃদ্ধ খাবার বেশী খায় তাদের ব্রেষ্টক্যান্সার এবং পাকস্থলীর ক্যান্সার কম হয়। দানা শস্য, মটর, শিম, ডাল, শাকসবজি, ফলমূল, যা প্রাকৃতিক পরিবেশে উৎপাদিত হয় এবং কম প্রক্রিয়াজাত করা হয় তার মধ্যে বেশী পরিমাণ আঁশ পাওয়া যায়। চর্বি জাতীয় খাবার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যেসব অঞ্চলের মানুষ অধিক চর্বি যুক্ত খাবার খায় তাদের ব্রেষ্ট ক্যান্সার এবং মলাশয়ের ক্যান্সার প্রবণতা বেশী।

শাক সবজি আদর্শ খাদ্য। শাক সবজিতে শুধু যে চর্বি কম, তা নয়, বরং এর মধ্যে রয়েছে অধিক পরিমান আঁশ। এর মধ্যে আরো আছে ক্যান্সার প্রতিরোধী উপাদান যেমন ক্যারোটিনয়েড। গাড় রং এর শাক সবজি ও ফল মূলে আছে বিটাক্যারোটিন যা ফুসফুসের ক্যান্সার, পিত্তথলির ক্যান্সার, ব্রেষ্ট ক্যান্সার সহ মানব দেহের অন্যান্য অঙ্গের ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।

বাঁধা কপি, ফুলকপি, ব্রকলি ও শালগমের মধ্যে আছে ফ্লাডোন এবং ইন্ডোল যা ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ লেবু জাতীয় ফল ও শাকসবজিতে এন্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। পক্ষান্তরে নেশাজাতীয় পানীয় যেমন মদ্যপান ক্যান্সার প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়। নেশাজাতীয় পানীয় দ্রব্যের সাথে যদি তামাক সেবনের অভ্যাস থাকে তাহলে ক্যান্সারের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

ক্যান্সার প্রতিরোধী খাবার হচ্ছে সে সব খাবার যে সব খাবারে রয়েছে অধিক পরিমাণ আঁশ, কম চর্বি, প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি ও ফলমূল। এক কথায় নিরামিষ খাবারই উত্তম খাবার যা প্রাকৃতিক পরিবেশে বিষমুক্ত ব্যবস্থাপনায় উৎপাদিত হয়।


Click Here To Print


Comments Must Be Less Than 5,000 Charachter