মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী শ্রমিক পাঠানো কি নিরাপদ?

মালয়েশিয়ার সরকার বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১৫ লাখ শ্রমিক নিয়োগ করবে পর্যায়ক্রমে ৩ বছরের মধ্যে। গত বছর (২০১৪ সালের জুন মাসে) এ ঘোষণা দিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। এতে বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে বেশ খুশি খুশি ভাব ছিল, কারণ বিদেশে শ্রমিক রফতানি কমে যাওয়ায় এমন ঘোষণা সরকারের সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তখন বলা হচ্ছিল, একমাত্র সরকারই জনশক্তি রফতানি করবে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করলে দালালদের খপ্পরে পড়ে শ্রমিকরা প্রতারিত হন। এ কথা অনেকখানি সত্য সন্দেহ নেই; কিন্তু সরকারের মাধ্যমে গেলে নিরাপদ এমন গ্যারান্টি কি সরকার দিচ্ছে? সরকারের ঘোষণার পর এবং কম খরচে যাওয়া যাবে বলে অনেকে আগ্রহী হয়েছিলেন, সেজন্য নিবন্ধীকরণের কাজও করা হয়েছিল। এ বছর জুন মাসে ঘোষণা আসে, ৫ লাখ (আরো পড়ুন )


অভিশপ্ত ভবন ও উন্নয়নের মিথ

দেশের উন্নয়নের চাবিকাঠি যাদের রক্তে-ঘামে জড়িয়ে আছে, সেই গার্মেন্ট শ্রমিকরা যখন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন, আহত হয়ে পঙ্গু হয়ে পড়ে থাকেন, তখন তাদের খবর কেউ রাখে না। রানা প্লাজার দুঃসহ স্মৃতির দুই বছর পূর্তিতে এ সত্য আবার আমাদের চোখের সামনে এসে পড়েছে। কোনো আনন্দের ঘটনার বর্ষপূর্তি কাম্য হতে পারে, কিন্তু রানা প্লাজা ধস ও সহস্রাধিক শ্রমিকের মৃত্যু এবং যে হাজার হাজার শ্রমিক ও কর্মী আহত হয়ে গার্মেন্ট শ্রমিকের হিসাব তালিকা থেকে চিরতরে হারিয়ে গেছেন, তাদের প্রতি সহানুভূতি জানানোর ভাষা আমাদের নেই। আমাদের লজ্জায় মাথা নত হয়, বিবেকে আঘাত লাগে। কিন্তু আজ পর্যন্ত যে খবর পাচ্ছি, তাতে দেখা যাচ্ছে, নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে ও আহত শ্রমিকদের সহায়তা পুরো (আরো পড়ুন )


'আমার মাটি, আমার মা, কেড়ে নিতে দেব না'

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার চান্দপুর চা বাগানের শ্রমিকদের ধানি জমি রক্ষার যে আন্দোলন চলছে তার প্রতি সংহতি প্রকাশ করে এই লেখা শুরু করছি। তবে খবরটি কেন জানি মিডিয়ায় একেবারে নীরব হয়ে আছে। ইলেকট্রনিক মিডিয়া ব্রেকিং নিউজের আশায় পথ চেয়ে থাকে, ক্যামেরা নিয়ে ছুটে যায় দৃশ্য ধারণ করিয়ে দর্শকদের দেখাতে। কিন্তু এর কিছুই দেখলাম না চা শ্রমিকদের আন্দোলনের ক্ষেত্রে। একটি ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার (২০ ডিসেম্বর, ২০১৫) বড় করে ছবি দিয়ে খবর করার কারণে চোখে পড়েছে। এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সদ্য ধান কাটা জমিতে নারী ও পুরুষ কৃষকরা বসে আছেন। একটি পোস্টার মাটিতে পুঁতে দেয়া হয়েছে, লেখা আছে 'চান্দপুর চা বাগানের ধান্য জমিতে স্পেশাল ইকোনমিক জোন হতে দেব না'। আরও দুইটি ছবিতে (আরো পড়ুন )


ক্ষোভ, আশা ও তার জবাব: শ্রমিক আন্দোলনে নারীর শক্তি বিকাশ

থাইল্যান্ডের একটি পুরাতন শহর চিয়াং মাই। প্রাকৃতিক সুন্দর্যের এই শহরের Loykroh সড়কে The Centara Duangtawan Hotel এ ১৮-২১ ডিসেম্বর, ২০১৪ অনুষ্ঠিত হলো Asia pacific Regional workshop on “Women Leading, Women organising” for women trade union organisers. ট্রেড ইউনিয়নে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিই শুধু নয় নেতৃত্বের পর্যায়ে নারীদের অবস্থান দৃঢ় করাও এই কর্মশালার একটি দিক ছিল।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা ছিলেন-বাংলাদেশ, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, মায়ানমার, কম্বোডিয়া, ফিজি, শ্রীলংকা, মালেয়াশিয়া ও পাকিস্তান এর প্রতিনিধিবৃন্দ। ২৪ জন অংশগ্রহণকারী এই কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। বিস্কুট ফ্যাক্টরি, প্রিন্ট ফ্যাক্টরি, গৃহ শ্রমিক, গার্মেন্ট শ্রমি (আরো পড়ুন )


পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি

রানা প্লাজা ধসে পড়া এবং তাজরীনের অগ্নিকান্ডের পর থেকে শ্রমিকরা মূলত অসন্তোষ প্রকাশ করে। এরপর শ্রমিকরা ৮০০০ হাজার টাকা মজুরি বাড়ার জন্য মালিকপক্ষের কাছে প্রস্তাব দেয়। শ্রমিকদের দিক থেকে মজুরি বাড়ানোর প্রস্তাব মালিকরা আয়ত্বে না নেয়ায় আন্দোলনে রূপ নেয়। অবশেষে ৬ জুন পোশাক শ্রমিকদের বেতন কাঠামোর জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়। শ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামোর লক্ষ্যে মালিকপক্ষ বোর্ডে ৩.৬০০ টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে প্রস্তাব দেন। মালিকপক্ষের দেয়া প্রস্তাব নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়েছিল। এরপর মালিকরা অনেক দেনদরবার শেষে মজুরি বোর্ডের প্রস্তাবে সম্মতি জানান। ১৯৮৫ সালে প্রথমবারের মতো ৬২৭ টাকা মজুরি নির্ধারণ করা হয়। ১৯৯৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯৩০ টাকা। ২০০৬ সা (আরো পড়ুন )


ফুটপাতে শ্রমিকের ঈদ, সরকার নির্লিপ্ত!

বেতনের দাবিতে সোয়ান গার্মেন্টের শ্রমিকদের ঈদ করতে হলো রাজপথে

খুশির ঈদ বলে বাংলাদেশে আর কিছু নেই। ঈদের খুশি তাদেরই হয় যারা ঈদের সময় প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটাতে পারেন, ঈদের দিন নতুন জামাকাপড় পরতে পারেন এবং সেমাই, ফিরনি, পোলাও ইত্যাদি খেতে পারেন। এসব একেবারে সাধারণভাবে ঈদের নূ্যনতম প্রয়োজন। এগুলো ছাড়া ঈদ শুধু কোলাকুলিতে শেষ হতে পারে না। নতুন কাপড় ছাড়া কোলাকুলিও মধুর হয় না। যারা সচ্ছল তাদের জন্য ঈদ আরও অনেক বেশি কিছু, তাদের বিদেশ যাওয়া, দিনে চারবার কাপড় পাল্টানো, পার্কে যাওয়াসহ আনন্দ করার সব মাধ্যম তাদের হাতে। ঈদে যত ইচ্ছা খরচ করার সামর্থ্য তাদের আছে। বাংলাদেশ এমন একটা দেশ যেখানে কোটিপতি ও নিঃস্ব মানুষ কাছাকাছি বাস করে। তারা একই দেশে এব (আরো পড়ুন )


বেতন বোনাস পরিশোধ কর

তোবা গ্রুপের শ্রমিকদের মে থেকে জুলাই এই তিন মাসের বেতন, ওভারটাইম ও বোনাস পরিশোধ করার জন্য বিজিএমইএর এক সপ্তাহ সময় লাগার কোন যৌক্তিকতা নেই। এটি আন্দোলনকে নস্যাত করার চক্রান্ত ছাড়া আর কিছুই নয়। ঈদের আগের দিন ইফতারের পর থেকেই বাড্ডা এলাকার হোসেন মার্কেটের সপ্তম তলায় আমরণ অনশন শুরু করেন তোবা গ্রুপের পাঁচ কারখানার শ্রমিকেরা। তিন মাসের বকেয়া বেতন, ওভারটাইম,ও ঈদ বোনাসের দাবিতে ৫ দিন ধরে আমরণ অনশন করছেন তোবা গ্রুপের ১৬০০ শ্রমিক।

২ আগস্ট, ২০১৪ তারিখে শ্রমবিকাশের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের সাথে একাত্বতা ঘোষণা করার জন্য গিয়ে ছিলেন নারী নেত্রী ফরিদা আখতার, সীমা দাস সীমু, রোকেয়া বেগম। শ্রমিকদের কষ্ট দেখে সত্যিই খুব খারাপ লেগেছে। তারা তাদের নায্য পাওনা (আরো পড়ুন )


জিএসপি না পেলে কী অসুবিধা?

যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশকে জিএসপি সুবিধা পুনর্বহাল করেনি; ১২২টি দেশে এ সুবিধা পুনর্বহাল করা হয়েছে, বাংলাদেশ সেখানে বাদ পড়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশও পেয়েছে। জিএসপি (Generalised System of Preference) বা অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা মূলত স্বল্পোন্নত দেশের পণ্য ধনী দেশে আমদানির ক্ষেত্রে তাদের শুল্ক ছাড় দেয়া হয়, যা রফতানি আয়ের দিক থেকে অনেক সুবিধাজনক। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন এ সুবিধা পেয়েছে; কিন্তু ২০১৩ সালে তা স্থগিত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার ২০১৫ সালে পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ সুবিধা নবায়ন করেনি। কেন করেনি তার কারণ হিসেবে জানিয়েছে, ২০১৩ সালে সুবিধা প্রত্যাহার করতে গিয়ে যেসব শর্ত দেয়া হয়েছিল, তা অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। এ বিষয়টি নি (আরো পড়ুন )


ইপিজেডে শ্রমিক কল্যাণ সমিতি না ট্রেড ইউনিয়ন!

ইপিজেডে কর্মরত পোশাক শিল্পের শ্রমিকরা ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার পেলেন না। সম্প্রতি (১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬), ইপিজেড শ্রমিক সংগঠন আইন, ২০১৬ নামে যে অনুমোদন দিয়েছেন মন্ত্রিসভা সে আইন অনুযায়ী সংগঠনের নাম হবে শ্রমিক কল্যাণ সমিতি। এই সমিতির মাধ্যমে মনে করা হচ্ছে মালিক পক্ষের সাথে যৌথ দরকষাকষি এবং ধর্মঘটের অধিকার পাবে শ্রমিকেরা। কিন্তু আসলে কি তাই মিলবে?

দেশী বিদেশী মিলিয়ে ১০টি রপ্তাতি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল বা ইপিজেড রয়েছে বাংলাদেশে। যেখানে কাজ করেন কয়েক লক্ষ শ্রমিক। বাংলাদেশের শ্রম আইনের পরিবর্তে ইপিজেডগুলো পরিচালিত হয়ে আসছে ইপিজেড শ্রমিক কল্যাণ সমিতি এবং শিল্প সম্পর্ক আইন নামের দুটি পৃথক নির্দেশিকা অনুযায়ী। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অগ্রাধিকার (আরো পড়ুন )


পোশাক শিল্পে শ্রমিকের অবস্থা

দেশের রপ্তানী আয়ের সবচেয়ে বড় খাত পোশাক শিল্প। এই সেক্টরে ৪০ লাখেরও বেশী শ্রমিক কাজ করে যাদের বেশীর ভাগ নারী শ্রমিক। সেই শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ এখনও নিরাপদ হয় নি। গার্মেন্ট কারখানার যাত্রা (আশির দশক) থেকে এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার শ্রমিক মারা গেছে আগুনে পুড়ে, পায়ের তলে পিস্ট হয়ে এবং কারখানা ধসে। তাই যে কোন শিল্পায়নের জন্য শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মক্ষেত্র জরুরী। আশি দশকের শুরুতে ঢাকায় গার্মেন্ট শিল্প গড়ে উঠলেও এই শিল্পের সুনির্দিষ্ট কোন স্থান নাই। এখনও যেখানে সেখানে এমন কি আবাসিক এলাকাতেও গার্মেন্ট কারখানা গড়ে উঠছে। যেখানে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িও ঢুকতে পারে না। তাজরিন গার্মেন্টে আগুন লাগার পরে বিল্ডং কোর্ড অনুযায়ী কারখানা ভবন নির্মানের জন্য মুন্সীগঞ্ (আরো পড়ুন )


শ্রমবিকাশ সম্পর্কে

পোশাক শিল্পে ১৯৭৫ সালের শেষের দিক থেকে বাংলাদেশে লক্ষণীয়ভাবে নারী শ্রমিকদের পদচারণা দেখা যায়। ৮০ র দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে বাংলাদেশে পোশাক শিল্পের দ্রুত প্রসার ঘটেছে। এদেশে রপ্তানি আয়ের ষাট থেকে সত্তরভাগ অর্থ আসে পোশাক শিল্প থেকে। যার মূল চালিকা শক্তি নারী শ্রমিক। শতকরা ৮০ ভাগ নারী শ্রমিক এই শিল্পের সাথে জড়িত। অথচ এদের উন্নতির জন্য মালিক পক্ষ বা সরকারের কোন ভ্রুক্ষেপ নাই। বাংলাদেশে শিল্পায়নের ক্ষেত্রে নারী শ্রমিকদের অস্তিত্ব সম্পর্কে দীর্ঘদিন চুপ করে থাকলেও এখন তারা আমাদের চোখের সামনে হাজির হয়েছে। এ দেশে শ্রমিক আন্দোলনের দীর্ঘ ইতিহাস আছে কিন্তু নারী শ্রমিকদের প্রশ্নে ট্রেড ইউনিয়ন ও সার্বিক শ্রমিক আন্দোলনের ধারণা এখনও পরিস্কার নয়। এ কথা এখন (আরো পড়ুন )