নয়াকৃষি এলাকার ১১টি নদী ও ২টি খালের পানির অবস্থা
উবিনীগ || Sunday 02 August 2026 ||
উবিনীগ ১৭তম কর্মী উন্নতি সভার তৃতীয় দিনে “মাটি ও পানি ব্যবস্থাপনা” শিরোনামে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় সেশনে নদীর পানি নিয়ে আলোচনা উপস্থাপনা করা হয়। নয়াকৃষির কেন্দ্র এলাকা থেকে ১১টি নদী ও ২টি খালের পানি নিয়ে উপস্থাপনা ছিল সমৃদ্ধ ও প্রাণবন্ত। যে সব নদী ও খাল থেকে পানি সংগ্রহ করা হয়েছে, সেগুলো হচ্ছে— ধলেশ্বরী, কালিগঙ্গা, তুরাগ, চিকনাই, খলিশাডাঙ্গা, চন্দ্রবতী, পদ্মা, গড়াই, লৌহজং, এলংজানি ও মাতামুহুরী, নদী এবং মির্জাপুর খাল ও জিয়া খাল।
বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। নদীমাতৃক বাংলাদেশে অসংখ্য নদ-নদী রয়েছে। এই নদীগুলির বর্তমান কি অবস্থা পানি সম্পর্কে আলোচনার শুরুতে ফরিদা আপার বক্তব্যে উঠে এসেছে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে শাখা-প্রশাখা নদীসহ প্রায় ১ হাজার নদী রয়েছে। এসব নদীর মধ্যে অনেক নদী দূষিত হয়ে পড়েছে। অনেক নদী নাব্যতা হারিয়েছে। বর্ষাকালে হাওর পানিতে ভরে যায়, তখন সেখানে প্রচুর মাছ পাওয়া যায় আর শীতকালে সেখানে ধান চাষ করা হয়।”

বর্তমানে বাংলাদেশে পানি দূষণের অবস্থা মারাত্মক পর্যায়ে পৌছেছে। বাংলাদেশের পানির গুণমান শিল্পের বর্জ্য থেকে পরিবেশ দূষণ, আবার মাটির তলার পানি সেচের মাধ্যমে একদিকে আর্সেনিক অপরদিকে লবন পানির অনুপ্রবেশ। পানযোগ্য পানির উৎস্য ভূগর্ভস্থ পানি সারা দেশে ক্ষতিকর ধাতু এবং কৃষিকাজে কীটনাশক ও রাসায়নিকের পদাোর্থর নির্বিচার ব্যবহার পানির গুণমান নষ্টের প্রধান কারণ। পানির এ রকম অবস্থায় নয়াকৃষির কেন্দ্রগুলো এলাকায় বর্তমানে পানির অবস্থা কিরূপ সেটা জানার জন্যে নদীর পানি নিয়ে আলোচনা।
সকল কেন্দ্র এলাকা থেকে নিয়ে আসা পনির নমূনার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা টেবিলে দেখানো হলো:
|
নদীর নাম / পানি সংগ্রহের স্থান |
এলাকার নাম |
আলোচনাকারী |
পানির বর্ণনা |
কেন্দ্রে এলাকার নাম |
|
মাতামুহুরীর পানি |
বদরখালী |
মমতাজ |
মাতামুহুরী নদীর পানি বঙ্গপোসাগরের পানির সাথে মিশ্রিত লবণাক্ত পানি। বর্ষাকালে এর পানি মিষ্টি হয়। এ পানি দিয়ে লবন তৈরি হয়। |
নোনাবাড়ি বিদ্যাঘর, বদরখালী, কক্সবাজার |
|
পদ্মা নদীর পানি |
কুষ্টিয় |
নয়াকৃষির কৃষক মনিরুজ্জামান |
এ পানি মিঠা ও অনেক পরিষ্কার। এ পনি দিয়ে গোসল করার পাশাপাশি ভাত, ডাল ও অন্যান্য খাবারও রান্না করা হয়। |
নবপ্রাণ আখড়াবাড়ি, কুষ্টিয়া |
|
মির্জাপুর খালের পানি |
কুমারখালী, কুষ্টিয়া |
নয়াকৃষির কৃষক মনিরুজ্জামান |
এ পানিতে কচুরিপানা থাকায় পানির রং কালচে, তবে পারি ভাল অবস্থায় আছে। বর্ষা কালে পদ্মা ও গড়াই নদীর পানিতে প্লাবিত হয়। |
নবপ্রাণ আখড়াবাড়ি, কুষ্টিয়া |
|
জিয়া খালের পানি |
কুমারখালী, কুষ্টিয়া |
ডলিভদ্র |
এ খালটি পদ্মা নদীর নিকটে অবস্থিত । এ খালের পানি দিয়ে কৃষিকাজ হয়, পানি পরিস্কার। এ খালে ইলিশসহ অন্যন্য মাছ পাওয়া যায়। |
নবপ্রাণ আখড়াবাড়ি, কুষ্টিয়া |
|
কালিগঙ্গা নদী |
কুষ্টিয়, বটতলা |
পরেশ কুমার মন্ডল |
এ নদীর বটতলা থেকে পানিটা দূষিত। এ স্থানের পানি দূষিত হবার কারণ আশেপাশে নানা রকম ফ্যাক্টরির বর্জ্য নদীর পানি দূষিত করছে। এ নদীর পানিতে প্রচুর মাছ পাওয়া যায়। |
নবপ্রাণ আখড়াবাড়ি, কুষ্টিয়া |
|
গড়াই নদী |
কুষ্টিয়া |
পরেশ কুমার মন্ডল |
এ নদীর পানি পরিস্কার। কৃষকরা এ নদীর পানি কৃষকরা তাদের ফসলে সেচ দেন। এ নদীতে ইলিশসহ আন্যান্য মাছ পাওয়া যায়। |
নবপ্রাণ আখড়াবাড়ি, কুষ্টিয়া |
|
ধলেশ্বরী নদী |
দেলদুয়ার টাঙ্গাইল |
নয়াকৃষির কৃষক আব্দুল আলিম |
এ নদীর পানি মিষ্টি ও পরিস্কার। পান করাও যায়। বর্ষাকালে বিভিন্ন মাছ পাওয়া যায়। |
রিদয়পুর বিদ্যাঘর, টাঙ্গাইল |
|
এলংজানি নদী |
টাঙ্গাইল |
নয়াকৃষির কৃষক খাদিজা |
এ নদীর পানি পরিস্কার। এ নদীর পানিতে বিভিন্ন মাছ পাওয়া যায়। |
রিদয়পুর বিদ্যাঘর, টাঙ্গাইল |
|
লৌহজং নদী |
টাঙ্গাইল |
নয়াকৃষির কৃষক খাদিজা |
এ নদীর পানি পরিস্কার ও মিষ্টি। এ নদীতে বিভিন্ন ধরণের মাছ পাওয়া যায়। |
রিদয়পুর বিদ্যাঘর, টাঙ্গাইল |
|
চন্দ্রবতী নদী |
দিয়ারপাড়া |
নয়াকৃষির কৃষক ছানোয়ারা |
এ নদীর পানি ফসলের জমিতে সেচ কাজে ব্যবহার হয়। এ নদীতে আগে মাছ পাওয়া যেত এখন আর নেই। |
আরশিনগর বিদ্যাঘর |
|
চিকনাই |
নাটোর |
গোলাম মোস্তফা রনি |
এ নদীর পানি প্রায় ১০ গ্রামের কৃষকদের ফসলের সেচের পানির চাহিদা পূরণ করে। বিভিন্ন মাছ পাওয়া যায়। |
আরশিনগর বিদ্যাঘর |
|
খলিশাডাঙ্গা |
নাটোর |
গোলাম মোস্তফা রনি |
এ নদীর পানি একটু সবুজে রং লক্ষ্য করা যায়। নদীর পানিতে কচুরিপানা আছে। এ নদীর পানি ফসলের সেচ কাজে ব্যবহার হয়। অনেক মাছ পাওয়া যায়। |
আরশিনগর বিদ্যাঘর |
|
তুরাগ নদী |
ঢাকা |
জাহাঙ্গীর আলম জনি |
এ নদীর পানি অত্যন্ত দূষিত। পানি খুব দুর্গন্ধ ও ঘোলাটে হয়। এ নদীতে রাগা নামে এক ধরণের মাছ পাওয়া যায়। |
ঢাকা শ্যমলী কার্যালয় |
এ সভার মাধ্যমে ১১টি নদী ও ২টি খালের পানি সরাসরি দেখা এবং আলোচনার মাধমে আমরা পানির অবস্থা সম্পর্কে জানার সুযোগ হয়েছে। নদী ও খালের পানির যে তথ্য পাওয়া গেছে তাতে নয়াকৃষি এলাকার প্রায় সকল নদী ও খালের পানি ভাল। তাহলে স্বাভাবিক ভাবে প্রশ্ন উঠে তাহলে নদীগুলো পানি ভাল হলো কিভাবে? তার একটি বড় উত্তর হচ্ছে এই সব এলাকায় রাসায়নিক সার, বিষ ব্যবহার নাই এবং গভীর নলকূপ দিয়ে পানি তোলা হয় না।


ঢাকা ও অন্য শহরের নদী ও খাল শিল্পকারখানার বর্জ্য এবং দখলের কারণে মারাত্মক রকম দূষিত। বিশেষ করে ঢাকার বুড়িগঙ্গা, তুরাগ বালু ও শীতলক্ষ্যা নদী।
নদী ও জলাশয়ে পানি ভাল রাখতে হলে অবশ্যই রাসায়নিক সার কীটনাশক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা আশু প্রয়োজন সেই সাথে সম্মিলিতি ভাবে নদী, খাল, জলাশয় দখল মুক্ত রাখতে হবে।
প্রতিবেদক: কামরুল হাসান নিলয় এবং গোলাম রাব্বী বাদল