উবিনীগ


উন্নয়ন বিকল্পের নীতি নির্ধারণী গবেষণা

সুবর্ণচরে নারী ধর্ষণে কলংকিত গণতন্ত্র

ডিসেম্বর ৩০ তারিখ, ২০১৮। এই দিন সারাদেশে একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচন হয়েছে। দিনশেষে নির্বাচনের ফলাফল আমরা জেনেছি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছে, আর অন্যান্যরা ধড়াসায়ী হয়েছে। সারাদিন এটাও জেনেছি ভোটাররা ভোট দিতে গিয়েও দিতে পারেন নি, তাদের বলা হয়েছে “আপনার ভোট দেয়া হয়ে গেছে”; কেউ কেউ ভোট কেন্দ্রে গিয়েও ঢুকতে পারেন নি। তবুও নির্বাচন অংশগ্রহণমুলক হয়েছে বলে সবাই স্বস্তিতে ছিলেন। যদিও নির্বাচনের ফলাফল অংশগ্রহণকারি রাজনৈতিক দলগুলো মেনে নেয় নি। এসব ভিন্ন আলোচনা। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে যে বিষয়টি এখনো নির্বাচনের জয়ের কপালে একটা কলংক চিহ্ন হয়ে আছে, তা হচ্ছে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় ভোট প্রয়োগ করতে আসা নারীর ওপর হি (আরো পড়ুন )


নারী আসন আরো ২৫ বছর ও নারীর রাজনৈতিক পঙ্গুত্ব

জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন আরও ২৫ বছর থাকার বিধান রেখে গত ৮ জুলাই, ২০১৮ জাতীয় সংসদে সংবিধানের সপ্তদশ সংশোধনী বিল ‘সংবিধান (সপ্তদশ সংশোধন) বিল-২০১৮’ বিভক্তি ভোটে পাস হয়েছে। এই সংশোধনীতে ৫০ টি নারী আসনের সংখ্যাও বাড়ানো হয়নি এবং নির্বাচন পদ্ধতিতেও কোন পরিবর্তন আনা হয়নি। শুধু ২৫ বছরের জন্যে মেয়াদ বাড়িয়ে সংবিধানের ৬৫(৩) অনুচ্ছেদে সংশোধনী আনা হয়েছেঃ

‘সংবিধান (সপ্তদশ সংশোধন) আইন,২০১৮ প্রবর্তনকালে বিদ্যমান সংসদের অব্যবহিত পরবর্তী সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে শুরু করিয়া ২৫ বৎসর কাল অতিবাহিত হইবার অব্যবহিত পরবর্তীকালে সংসদ ভাঙ্গিয়া না যাওয়া পর্যন্ত পঞ্চাশটি আসন কেবল মহিলা সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত থাকিবে এবং আইনানুযায়ী পূর (আরো পড়ুন )


নারীর অধিকার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলুন

আর্ন্তজাতিক নারী দিবস : আলোচনা সভার প্রতিবেদন

আর্ন্তজাতিক নারী দিবস উপলক্ষে অধিকার, নারীগ্রন্থ প্রবর্তনা ও স্বাস্থ্য আন্দোলন যৌথভাবে নারীগ্রন্থ প্রবর্তনায় ৮ মার্চ,২০১৬ তারিখ বিকেল ৪ টায় আলোচনা সভার আয়োজন করে। পুরো সভাটি সঞ্চালনা করেন নতুন প্রজন্মের মুন্নী খানম। সভার শুরুতে প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী ও চলচিত্র নির্মাতা খালিদ মাহমুদ মিঠুর অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে নেত্রীরা এক মিনিট বিরবতা পালন করেন।

সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন, অধ্যাপক (অব:) তাসনীম ফেরদেৌস (জুলি) কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য, নারীগ্রন্থ প্রবর্তনা।

সভায় উপস্থিত ছিলেন গার্মেন্ট শ্রমিক, কবি, সাংবাদিক, নারীগ্রন্থ প্রবর্তনার সাধারণ পরিষ (আরো পড়ুন )


যৌতুক ও বাল্যবিয়েঃ গ্রামের মেয়েদের অভিজ্ঞতা

“আমি একটু পড়াশোনা বেশি করলে অন্যের সামনে গেলে বলতে পারি আমি এসএস সি কিংবা ‘ইন্টার’ পর্যন্ত পড়েছি। আমার যদি বিয়ে নাও হয় তাহলেও আমি লেখাপড়ার জোরে সমাজে দাঁড়াতে পারি। কিন্তু মেয়েদের পক্ষে এইটুকুন লেখাপড়া করাও হয়ে ওঠে না। অনেকের অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে দেয় বাবা মায়েরা। কারণ তারা নিরাপদ হতে চায়। মেয়ের কোন ক্ষতি হবে এই আশংকায় মা-বাবা তাকে বিয়ে দিয়ে দেয়। এতে মা-বাবা নিরাপদ হয়, কিন্তু মেয়ে শেষ হয়ে যায়”।

যৌতুক ও বাল্যবিয়ে নিয়ে টাঙ্গাইলের লাউহাটি ইউনিয়নের ১০ জন নারীর সাথে কথা হচ্ছিল। তারাই বলছিলেন পড়ালেখা শেখার আগ্রহের কথা। যে ক্লাস এইট পর্যন্ত পড়েছে সেও নিজেকে শিক্ষিত মনে করে, কিন্তু আরও পড়ার সুযোগ পায়নি বলে মনে কষ্ট পায়। (আরো পড়ুন )


নারী ধর্ষণ ও নারী সংগঠনের ভুমিকা

দেশে জাতীয় নির্বাচনের মাত্র দেড় বছর বাকী, এই সময়ে জনগণের ভোটের অধিকার প্রয়োগের নিশ্চয়তা নিয়ে শান্তিপুর্ণভাবে নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন হবে কিনা এসব প্রশ্ন নিয়ে আমাদের সংবাদ মাধ্যম ব্যস্ত থাকার কথা। কিছুটা থাকছেও। তাছাড়া বন্যা পরিস্থিতি, ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরের অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট জলজট, পাহাড়ধস, খাদ্য ঘাটতির সম্ভাবনা – কোনটাই কম নয়। দেশের মানুষের জন্যে দুশ্চিন্তার বিষয়। কিন্তু এতো সব জরুরি বিষয় থাকতে আমরা ব্যাস্ত থাকতে বাধ্য হচ্ছি ধর্ষণ ও নির্যাতনের মতো নির্মম ও পৈশাচিক ঘটনা নিয়ে। জাতীয় পর্যায়ের খবরের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে নারী নির্যাতন বা আরো স্পষ্ট করে বললে নারী ধর্ষণের কথা। মর্মান্তিক এবং ভয়াবহ এসব ঘটনা, এখানে বয়সের বা স্থান কাল পাত্রের (আরো পড়ুন )


এজেন্ডা ২০৩০ ও নারী অধিকার অর্জনঃ নারীবাদী পর্যালোচনা

জাতিসংঘ প্রণীত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বা Sustainable Development (SDG) একটি বৈশ্বিক কর্মসূচী। একে বাদ দিয়ে এখন উন্নয়ন পরিকল্পনা করার সুযোগ কম। ২০৩০ সাল পর্যন্ত সার্বিক উন্নয়নের চিন্তা করতে হবে এই এসডিজি ঘিরেই। সহস্রব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (MDG) পথ ধরে এসডিজি আসে। এসডিজি লক্ষ্য মাত্রা অর্জন করতে হলে সরকার এবং বেসরকারী প্রতিষ্ঠান একত্রে কাজের পরিকল্পনা করতে হবে। এসডিজির একটি উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে শুধু নিজের দেশের উন্নয়ন করলে হবে না, এক দেশের সঙ্গে অন্য দেশের আয় বৈষম্যের যে পার্থক্য রয়েছে সেটাও কমিয়ে আনতে হবে। মানব পাচার রোধ ও নারী শিশুর প্রতি নির্যাতন রোধ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করা, পাচার বা চুরি হওয়া সম্পদ উদ্ধার এবং দূনীতি কমানোর লক্ষ্য অবশ্যই অর্ (আরো পড়ুন )


বেগম রোকেয়া নয়, রোকেয়া খাতুনকে চিনুন

গত শতাব্দি থেকে একটি নাম নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল শিক্ষিত মানুষের কাছে পরিচিত এবং গ্রহণযোগ্য সে নাম হচ্ছে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। তাঁকে সংক্ষেপে বেগম রোকেয়া বলা হয়, যদিও এই বেগম কোথা থেকে এলো তার কোন হদিস পাওয়া যায় না। বেগম তাঁর নামের অংশ নয়। তার আসল নাম রোকেয়া খাতুন। মুসলিম পরিবারের অতি চেনা একটি নাম। জন্ম ১৮৮০ সালে রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ গ্রামে। রোকেয়ার কারণে পায়রাবন্দ গ্রামও সারা বিশ্বে পরিচিত। শহর গ্রাম সব জায়গায় মেয়েদের নাম ‘রোকেয়া’ রাখা হয়। আমার বিশ্বাস রোকেয়ার কাজের কারণেও এই নাম অনেক প্রচার পেয়েছে। তাঁর বাবা জহিরুদ্দিন মুহাম্মদ আবু আলী হায়দার সাবের জমিদার ছিলেন, তিনি পুরুষতান্ত্রিক চরিত্রের ব্যতিক্রম (আরো পড়ুন )


লিঙ্গ সমতা অর্জনে ১১৮ বছর অপেক্ষার তত্ত্ব

বিশ্বের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজ উন্নয়নের মাপকাঠি হিসেবে নারীর কত উন্নতি হলো তা জানা শুধু আমাদের দেশের জন্যই নয়, বিশ্বের বড় বড় নীতিনির্ধারণী ফোরামের মাথাব্যথার কারণ হয়ে গেছে। নারীকে আর ঘরের চার দেয়ালের মধ্যে চিন্তা করার উপায় নেই। নারী এখন সব কিছুরই লক্ষ্য এবং উপায়। তাই আন্তর্জাতিক ফোরামে আজকাল নারীর কথা উঠে আসে বারবার।

সম্প্রতি নারী উন্নয়ন সংক্রান্ত দুইটি বিপরীতধর্মী তথ্য দেখে চিন্তিত হচ্ছি। একটি 'ভালো' খবর- দ্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের পর্যালোচনায় নারী-পুরুষের ব্যবধান কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। বিশ্বের ১৪৫টি দেশের নারীর পরিস্থিতি নিয়ে করা এ সূচকে চার ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশ ৬৪ নম্বরে। এর আগে (আরো পড়ুন )


“ভগিনীগণ! চক্ষু রগড়াইয়া জাগিয়া উঠুন”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেগম রোকেয়া পদক বিতরণী অনুষ্ঠানে একটি অতি সত্য কথা বলে ফেলেছেন, যদিও এক পক্ষীয়ভাবে, বিরোধী দলীয় নেত্রীকে দোষারোপ করে। তিনি বুঝেছেন যে দুই নেত্রীকে জনগণ গালি দিচ্ছে। তিনি বলছেন বিরোধী দলীয় নেত্রী হরতাল-অবরোধ দিয়ে মানুষ না মারলে ‘দুই নারী হিশেবে গালি খেতে হতো না’। হরতাল অবরোধ করে যদি শুধু বিরোধী নেত্রীর দোষ হতো তাহলে দুই নারীকে জনগণ গালি দেবে কেন? যিনি অন্যায় করছেন তাকেই দেবে। জনগণ এতো অবিবেচক নয়। কাজেই ব্যাপারটা প্রধানমন্ত্রী স্বীকার না করলেও সত্যি যে আচরণ, প্রতিহিংসাপরায়ণতা এবং দোষারোপ করার দিক থেকে তারা দুই নেত্রী তাদের জায়গা থেকেই মূল্যায়ন করে। তারা বিষয়টি ভালোভাবে নিচ্ছে না, তাই দুই নেত্রীকেই প্রধান (আরো পড়ুন )


এক তরফা নির্বাচন বন্ধ কর, নির্যাতন নিপীড়ন ও হত্যাকাণ্ড বন্ধ করুন

গত ৭ ডিসেম্বর বিকেল ৩টায় শাহবাগ জাদুঘরের সামনে সম্মিলিত নারী সমাজের আয়োজনে কালো পতাকা প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এই সমাবেশে বিভিন্ন নারী সংগঠন, শ্রমিক ও নানা পেশার নারীরা অংশ্রগ্রহণ করেন, সম্মিলিত নারী সমাজ দাবী জানায় এক তরফা নির্বাচন বন্ধ কর, নির্যাতন, নিপীড়ন ও আগুনে পুড়িয়ে হত্যাকাণ্ড বন্ধ কর এবং জনগণের গনতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা কর। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত নারী সমাজের নেত্রী ফরিদা আখতার, বক্তব্য রাখেন সীমা দাস সীমু, সামিয়া আফরিন, ফিরোজা বেগম, রোকেয়া বেগম, শাহীনুর বেগম,রওশন আরা রুশো, শম্পা বসু, ফেরদৌস আখতার লিলি সহ আরও অনেকে।

বক্তারা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং দুই নেত্রীর উদ্দেশ্যে দাবী জ (আরো পড়ুন )


৩০০ আসনে নির্বাচন : বাকি ৫০টির কী হবে?

একদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে কি হবে না সংশয়, অন্যদিকে সরকারি দলের প্রস্তুতি চলছে মনোনয়নপত্র বিক্রির। এ যেন এক উৎসব। নাচানাচি হচ্ছে, ঢোল বাজছে। তবে এ উৎসবে আসনসংখ্যা গনা হচ্ছে ৩০০। মনে হচ্ছে এগুলো বেশির ভাগ পুরুষদের জন্য নির্ধারিত। মোটরসাইকেল র?্যালি করে এসে মনোনয়ন চাওয়ার মধ্যে তাই প্রতীয়মান হয়। তারা সবাই ৩০০ সাধারণ আসনের মধ্যে নিজ নির্বাচনী এলাকার মনোনয়নপত্র কিনছেন ২৫ হাজার টাকা দিয়ে। এরই মধ্যে সবার অজান্তে থেকে যাচ্ছে ৫০টি আসন, যা সংরক্ষিত নারী আসন নামে পরিচিত। যখন সংসদ অধিবেশন চলে তখন যিনি চালান অর্থাৎ স্পিকার, তিনি যে আসন থেকে এসেছেন সে আসনও এখন গনার বাইরে। এ বড় অদ্ভুত ব্যাপার। এ আসনগুলোর মর্যাদা কখন বাড়ে বা কমে তা বোঝার উপায় নেই। স্প (আরো পড়ুন )


সংরক্ষিত আসনে বিশেষ সুবিধা কার?

 জাতীয় সংসদে সাধারণ আসন সংখ্যা ৩০০ আর নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন ৫০টি, অর্থাৎ মোট ৩৫০ টি আসন রয়েছে।কিন্তু সামনে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে এতো বিতর্কের মধ্যে যে বিষয়টি পরিস্কারভাবে কোন আলোচনায় আসছে না, সেটা হচ্ছে নির্বাচন আসলে কত আসনে হচ্ছে? জানি, অনেকে বলবেন, এখানে বলাবলির কি আছে, ৩০০ আসনে নির্বাচন হয়ে নির্বাচিত সদস্যরাই নারীদের মনোনয়ন (তাঁদের ভাষায় নির্বাচিত করে) দেবেন!সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচনের জন্য নারী আন্দোলনের দীর্ঘ দিনের দাবী উপেক্ষিত হচ্ছে ক্রমাগতভাবে।

হ্যাঁ, দুঃখের বিষয় হচ্ছে, এটাই নিয়ম সাংবিধানিকভাবে। ১৯৭১ সালে নয়মাসের মুক্তিযু (আরো পড়ুন )